Friday , April 20 2018
Home / অন্যান্য / দেহ ব্যবসার নিরাপদ জায়গা ফয়েজ লেক, খুলশীর গেস্টহাউস ও রিসোর্ট

দেহ ব্যবসার নিরাপদ জায়গা ফয়েজ লেক, খুলশীর গেস্টহাউস ও রিসোর্ট

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকায় গেস্টহাউস ও রিসোর্টের আড়ালে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। যেখানে অভিযান চালালেই ধরা পড়ে দেহপসারিনী নারী ও পুরুষ। কিন্তু কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অসামাজিক কর্মকান্ড। এ ঘটনায় ত্যক্ত-বিরক্ত এলাকাবাসী।

খুলশী এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোকে নিরাপদ স্থান হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই অসামাজিক কার্যকলাপে। পাশাপাশি গেস্ট হাউজ ও রেস্টুরেন্টের নামে রয়েছে অহরহ মিনি হোটেল। যাতে রয়েছে ছোট ছোট রুমে অবৈধ সম্পর্কে (যৌন মিলন) লিপ্ত হওয়ার নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

সরেজমিনে ফয়েজ লেক ঘুরে দেখা গেছে, রিয়েল পার্ক, লেক সিটি, লেক পয়েন্ট রিসোর্ট, লেক গার্ডেন ও স্বর্ণালী নামে রয়েছে পাঁচটি আবাসিক হোটেল। রয়েছে অনেক গেস্ট হাউস ও রেস্টুরেন্ট। নামে আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্টুরেন্ট হলেও কাজে মূলত এক একটা বড় আকারের পতিতালয়। হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পর্যটক নয় প্রতিদিন ভিড় জমায় যুবক যুবতী ও যৌন কর্মীরা। পার্কের নামে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজে এসে অবৈধ সম্পর্কে (যৌন মিলন) লিপ্ত হয় উঠতি বয়সের তরুন-তরুনী ও যৌন কর্মীরা বিশেষ করে কলেজ পড়–য়া ছাত্র -ছাত্রীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফয়েজ লেকের এক ব্যবসায়ী জানান, হোটেলগুলোর প্রতিদিনের গেস্ট তরুন-তরুনী, কলেজ পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী ও যৌন কর্মীরা। তারা হোটেল, রেস্টুরেন্টে বা গেস্ট হাউজে ঢুকবে, ঘন্টা দুয়েক অবস্থান করবে, তারপর চলে যাবে। এখানে তেমন কোন বাইরের গেস্ট আসেনা। আসলেও বেশির ভাগ অন্যত্রে গিয়ে অবস্থান করে। খুলশী আবাসিক এলাকায় অনেকগুলো গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে। এতে ক্রমেই বাড়তে থাকা দেহ ব্যবসার কারণে আবাসিকে বসবাসরত লোকজন ইমেজ সংকটে পড়েছে। এসব গেস্ট ও রেস্ট হাউসে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের রয়েছে আনাগোনা।

তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় গেস্টহাউসের কারণে স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গেস্টহাউস বন্ধের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছিল। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, খুলশী এলাকার অভিজাত ফ্ল্যাটবাসা ভাড়ায় নিয়ে খোলা হয়েছে বহু গেস্ট ও রেস্ট হাউস। ভাড়া নেয়া দৃষ্টিনন্দন এসব বাসার সামনে লাগানো হয়েছে বাহারী নাম লিখা সাইনবোর্ড। কিন্তু আড়ালে চলছে দেহ ব্যবসা। এসব অভিজাত বাসায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ইয়াবা কিংবা বিদেশি দামি মদের বোতল।

সরেজমিনে জানা যায়, দক্ষিণ খুলশীর স্বপ্নবিলাস গেস্টে হাউসের ম্যানেজার নয়ন খুলশী তিন নম্বর সড়কে মসজিদের বিপরীতে খুলশী রিসোর্ট নামে আরো একটি গেস্ট হাউস খোলেন। ঢাকায় অবস্থানরত একজন শিল্পপতির বাসাটি ভাড়া নিয়ে খোলা হয় গেস্ট হাউসটি। খুলশী রিসোর্টের পাশেই রয়েছে স্বনামধন্য একজন ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন সিলভার পুন নামের আরো একটি গেস্ট হাউস। প্রতিষ্ঠিত স্বনামধন্য অনেক ব্যবসায়ী নেমেছেন গেস্ট হাউসের ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠিত পরিবারের অনেক সন্তান জড়িয়ে পড়েছেন গেস্ট হাউসভিত্তিক অনৈতিক কর্মকান্ডে অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় চলে অবৈধ এ ব্যবসা। খুলশী হিল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ বলেন, খুলশী আবাসিক এলাকা অসামাজিক কর্মকান্ড- ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে। আবাসিক এলাকায় ইচ্ছেমতো খোলা হয়েছে বাণিজ্যিক গেস্ট হাউস। আর আড়ালে চলছে অসামাজিক কাজ। পরিবেশ এতই খারাপ হয়েছে যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, গেস্ট হাউস ভিত্তিক অনৈতিক এ ব্যবসায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে আঁখি ও তার স্বামী সুমন, রেখা, মরিয়ম, মীম, সাথী ও দুলালের বউ। এদের মধ্যে দক্ষিণ খুলশী এলাকায় স্বপ্ন বিলাস নামে গেস্ট হাউসটি আঁখি নিজেই পরিচালনা করেন। তিন নম্বর সড়কের মসজিদ কমিটির সভাপতি গোলাম সামদানি বলেন, খুলশী আবাসিক এলাকায় অসামাজিক কাজ চলছে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এ অবৈধ ব্যবসা।

Check Also

আবাসিক হোটেল থেকে অশালীন অবস্থায় ৬ যুবক-যুবতী সহ আটক ৭

রাজশাহী মহানগরীর মালোপাড়ায় অবস্থিত হোটেল স্কাই থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৬ জন যুবক-যুবতী ও হোটেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *