Wednesday , April 25 2018
Home / বিদেশ / জর্জ ডব্লিউ বুশ ও এক পতিতার মৃত্যুদন্ডের গল্প!

জর্জ ডব্লিউ বুশ ও এক পতিতার মৃত্যুদন্ডের গল্প!

‘আমিই ওই লোকগুলোকে হত্যা করেছি, একদম ঠাণ্ডা মাথায়। আমাকে বাঁচিয়ে রেখে কোন লাভ নেই.. আমি আবারও মানুষ হত্যা করব। কারণ আমার পুরোটা জীবন জুড়ে মানবজাতির জন্য শুধু ঘৃণা রয়েছে, আর কিছু না। ‘মেয়েটি পাগল’ এই কথা শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত। আমাকে অনেকবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। আমি সুস্থ মস্তিষ্কে, সজ্ঞানে কথাগুলো বলছি এবং সত্যি বলছি। আমি এমন একজন মানুষ যে সত্যিই মানুষকে ঘৃণা করি এবং ছাড়া পেলে আবারও মানুষ হত্যা করবো।’

২০০১ সালে এক পিটিশনে কথাগুলো লিখেছেন আইলিন ওয়ারনোস, যে সাধারণ পতিতা থেকে এক ভয়ঙ্কর খুনী হয়ে উঠেছিলেন। আইলিনের জন্মের সময় তার বাবা-মা টিনএজার ছিল। তার মা ডিয়ান ওয়ারনোসের বয়স তখন ১৫। বাবা লিও ডেল পিটম্যানের বয়স মায়ের চেয়ে দুই বছর বেশি। আইলিনের জন্মের ২ মাস আগেই তার বাবা মায়ের মধ্যে তালাক হয়ে যায়।

আইলিনের জীবনের মোড় এখানে বাঁক নেয়। যার তার জন্মটাকে এক বিরাট শাস্তি হিসেবে রূপ দেয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া আইলিনের শৈশব কেটেছে দুঃস্বপ্নের মত।
মাত্র ১১ বছর বয়সে নিজের নানার কাছে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। ১৪ বছর বয়সে নানার এক বন্ধু দ্বারা ধর্ষিত হয়ে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় আইলিন। বাচ্চাটিকে পরবর্তীতে দত্তক দেওয়া হয়। তার ছেলের জন্মের কিছুদিন পরই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ঐ সময়েই তার নানীও মারা যান। নানী মারা যাওয়ার পর আইলিনকে ঘর থেকে বের করে দেয় নানা। এরপর জীবন বাঁচানোর তাগিদে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন

গৃহহীন এই কিশোরী পতিতাবৃত্তির জন্য জঙ্গলে বাস করা শুরু করেন। জঙ্গলে বসবাসের সময় থেকেই অপরাধ জগতের পথে চলা শুরু করেছিল আইলিন। ১৯৭৪ সালে ১৮ বছর বয়সে
কলোরাডোর জেফারসন কাউন্টি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আপত্তিকর আচরণের পাশাপাশি চলন্ত যানবাহনে ২২ ক্যালিবারের পিস্তল থেকে গুলি ছোঁড়েন তিনি। ২০ মে ১৯৮১ সালে ফ্লোরিডার এজওয়াটার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। একটি মুদি দোকানে ৩৫ ডলার ও দুটি সিগারেটের প্যাকেট চুরি করেন তিনি।

১ মে, ১৯৮৪ সালে ব্যাংকে জাল চেক দিয়ে টাকা তুলার চেষ্টা করার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮৫ সালে পাস্কো কাউন্টি থেকে একটি রিভলভার ও গুলি ডাকাতির কেইসে তাকে সন্দেহভাজন ধরা হয়। ৪ঠা জানুয়ারি, ১৯৮৬ সালে তাকে মায়ামি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গাড়ি চুরির অপরাধে। মায়ামি পুলিশ তার চুরি করা গাড়িতে একটি ৩৮-ক্যালিবারের রিভলভার ও কিছু গুলি খুঁজে পায়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার এক হোটেল কর্মীর প্রেমে পড়েন আইলিন। তারা একসাথে বসবাস করা শুরু করেন। আইলিন পতিতাবৃত্তি করেই দুইজনের খরচ যোগাতো।

১২ মে ১৯৮৯ সাল। ওইদিন আইলিন প্রথম খুন করেন। রিচার্ড ম্যালোরি নামে (৫১) একজন ইলেক্ট্রনিক জিনিসপত্রের দোকানের মালিককে হত্যা করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে হত্যা করেন আরো ছয়জনকে, যারা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ আইলিনের। তার পরবর্তী হত্যার শিকার ডেভিড স্পিয়ার, বয়স ৪৩ বছর; পেশায় একজন নির্মাণ কর্মী, চার্লস কারকাড্ডন; বয়স ৪০ বছর এবং পেশায় খন্ডকালিন রেডিও কর্মী; পিটার সিমস, বয়স ৬৫ বছর, অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী; ট্রয় বুরেজ, বয়স ৫০ বছর, পেশায় সসেজ বিক্রেতা; চার্লস হ্যাম্পফ্রে, বয়স ৫৬ বছর, অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান বিমান বাহিনীর মেজর; ওয়ালাটার জেনো, বয়স ৬২ বছর, পেশায় সিকিউরিটি গার্ড।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল, এই এক বছরের মধ্যে সাতজন পুরুষ কে হত্যা করে। ১৬ জানুয়ারি, ১৯৯১ সালে আইলিন গ্রেপ্তার হয় এবং সব স্বীকার করে নেয়। এরপর ৬ বার তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়, ৭ নম্বর খুন টির জন্য তার কোন শাস্তি হয়নি কারণ সিমসের লাশ কখনও খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ২০০২ সালে আইলিন অভিযোগ করেন যে, তার জেল মেট্রন তার খাবারে আবর্জনা, থুতু ও প্রস্রাব মেশায়। এছাড়া সে তাদের কে বলতে শুনেছে যে, তারা তাকে এতো বেশি অত্যাচার করবে যেন সে নিজেই আত্মহত্যা করে। আর যদি না করে, তবে মৃত্যুদণ্ডের আগে তাকে তারা ধর্ষণ করবে। সে আরও অভিযোগ করে যে তার সকল জামা কাপড় খুলে তাকে সার্চ করা হতো, হাতে টাইট হ্যান্ডকাফ পরানো হতো, বিনা কারণে বারবার দরজায় লাথি দিয়ে শব্দ করতো ইত্যাদি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত সাংবাদিক ব্রুমফিল্ডকে দেওয়া তার সকল সাক্ষাৎকারে তিনি জেলে তার উপর হওয়া অত্যাচার গুলোর কথা বলতে থাকে। তার উকিল তার এসব কথাকে তার মানসিক সমস্যার ফল হিসেবে দেখিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন করেন। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাতে কর্ণপাত করেননি। বরং তার মৃত্যুদণ্ডের উপর থাকা সাময়িক স্থগিতাদেশ তুলে দেন এবং তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।

২০০২ সালের ৯ অক্টোবর লিথাল ইনজেকশনের মাধ্যমে আইলিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুর আগে শেষ খাবার তিনি খাননি, নিয়ম অনুযায়ী ২০ ডলারের নিচে দামি যেকোনো খাবার সেদিন তিনি খেতে পারতেন। কিন্তু আইলিন মৃত্যুর আগে শুধু এক কাপ কফি খেয়েছিল। তার অনুরোধ ছিল তার শেষ কৃত্যানুষ্ঠানে যেন নাটালি মারচেন্ট এর ‘কার্নিভাল’ গানটি বাজানো হয়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া

Check Also

৫৭ মুসলিম দেশের সৈন্য নিয়ে ‘আর্মি অব ইসলাম’ গড়ছে তুরস্ক

৫৭ মুসলিম দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ‘আর্মি অব ইসলাম’ নামে বিশাল সামরিক বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *