Wednesday , April 25 2018
Home / সংবাদ / চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ : পরিকল্পনামন্ত্রী

চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলংকার মতো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ। তবে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের রফতানি ও বিদেশী ঋণ প্রবাহ কমার কোনো আশঙ্কা নেই। উল্টো উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বড় অংকের ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার নির্ধারণে দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হবে। আগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দাতাদের শর্ত মেনে ঋণ নিতে হতো।

তিনি বলেন, পোশাক খাতের পাশাপাশি নতুন করে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি), চামড়া এবং ওষুধ রফতানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নতুন পণ্য আগামীতে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে। বাড়বে বৈদেশিক বিনিয়োগও।

গতকাল দুপুরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি উপলক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছানোর প্রাথমিক স্বীকৃতি পেয়েছি। তিন বছর পর আমরা চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাব। তিন বছর আমাদেরকে তারা দেখবে। চলতি বছরেই বিশ্ব অর্থনীতির ৪০তম দেশ হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে আমরা ৪৩তম অবস্থানে। আর ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাব, তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০তম দেশ হব।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক— এ তিনটির যেকোনো দুটি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে। এসব সূচকের সবগুলোতেই আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি। স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখানে ৪৩ বছর পর আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেলাম। কিন্তু এখন আমরা খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করব। কারণ আমাদের কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। ডেমোগ্রাফিকে ডিভিডেন্ডে আমরা সব দেশ থেকে এগিয়ে। আমাদের মতো কর্মক্ষম জনবল কোনো দেশে নেই। যেটা আমরা ধরে রাখতে পারব ২০৬১ সাল পর্যন্ত।

অর্থনীতিতে রাতারাতি কোনো কিছু অর্জনের সুযোগ নেই জানিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এক্ষেত্রে লিফটে ওঠার ব্যবস্থা নেই, সিঁড়ি ভেঙেই উপরে উঠতে হবে। বাংলাদেশ সিঁড়ি ভেঙেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০১০ সালে আমরা ৫৮তম ছিলাম, সেখান থেকে এখন আমরা ৪৩তম অবস্থানে। হয়তো আমাদের এখানে আসতে অন্য দেশের তুলনায় সময় বেশি লেগেছে। কিন্তু এখন আমরা খুব দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করব। শুধু উন্নয়নশীলই নয় উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ।

আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নসহ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বেসরকারি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ যেসব সুবিধা হারাবে, তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে উন্নত দেশে যাওয়ার জন্য বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হবে। সেগুলোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে হাত দিয়েছি। আমরা গভীর সমুদ্রবন্দর করছি। গ্যাস, বিদ্যুতের উন্নয়ন করছি। ২০৩০ সালে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করব। আমাদের প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা দরকার। হয়তো আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ কম। তবে আমরা তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি, এতে বিনিয়োগ বাড়বে। তাছাড়া আমাদের রফতানি শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। আইসিটি, ওষুধ, চামড়া— এগুলো হবে আমাদের ভবিষ্যত্ রফতানির অন্যতম বড় খাত। এর মধ্যে আইসিটি হবে শীর্ষ খাত।

Check Also

ব্রেকিং : ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি

ফাল্গুন বিদায় নিয়ে চৈত্র মাস চলে এলেও দেশের কোথাও এখন পর্যন্ত কালবৈশাখীর দাপট কিংবা ঝুম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *