Wednesday , May 23 2018
Home / স্বাস্থ্য-সেবা / সুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন বাঁচতে পান্তা ভাত খান

সুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন বাঁচতে পান্তা ভাত খান

নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতকে পানিতে প্রায় একদিন ডুবিয়ে রাখলেই তা পান্তায় পরিণত হয়। এটা মূলত ভাত সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। পান্তা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন – বাসি পান্তা, দই পান্তা, জিরা পান্তা। আমাদের দেশে সাধারনত বাসি পান্তা খাওয়া হয়। পহেলা বৈশাখের মেনু হিসেবে পান্তা ভাত খাওয়া হয় সকালের দিকে। এর সাথে থাকে ইলিশ ভাজা, বেগুন ভাজা, শুটকি ভর্ভা।

পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ : খাওয়ার আগে যদি এর পুষ্টি মুল্য জানা থাকে তাহলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কতটুকু খাওয়া উচিত হবে এবং সচেতন থাকতে পারবেন। তবে কেনা পান্তা না খেয়ে পরামর্শ থাকলো বাসায় তৈরী পান্তা খাওয়ার। পান্তা ভাতের ক্যালরী মুল্য নির্ভর করে কি ধরনের চাল দিয়ে রান্না করা হয়েছে তার উপর। চাল ভেদে ১ কাপ ভাত থেকে ২০০- ২৪২ ক্যালরী পাওয়া যায়। অনেকে পান্তা ভাতের সাথে ঘি খেয়ে থাকেন। ১ টেবিল চামচ ঘি থেকে পাওয়া যায় ১১২ ক্যালরী। দই পান্তা ও জিরা পান্তার ক্যালরী মূল্য আরও বেশি। কারণ এগুলো তৈরীতে ব্যবহৃত হয় টক দই ও তেল। পান্তা ভাতের অন্যান্য পুষ্টিগুণ: পান্তা ভাতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়ামের পরিমান রান্না করা ভাতের (steamed rice) তুলনায় বেশি থাকে। অন্যদিকে সোডিয়ামের পরিমান কমে যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।এছাড়া ভিটামিন -বি ২ , ভিটামিন -বি ১২ অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। . পান্তা ভাত দেহে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করে দেহকে পানিশুন্যতা থেকে রক্ষা করে। তীব্র গরমে সান-স্ট্রোক বা হিট-স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে। পান্তা গ্যাস্টিক রোগীর জন্যও উপকারী। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া বয়স্কদের জন্যও পান্তা মোটেই ভালো নয়। .

ভাত ও পান্তার গুনাগুণে পার্থক্য : ভাতের চেয়ে পান্তায় পুষ্টি বেশি। ভাতের তুলনায় পান্তা সহজে হজম হয়। ভাতের চেয়ে পান্তায় সোডিয়াম কম থাকায় রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, তবে এর সাথে লবন বেশি নেওয়া যাবে না। ভাত পুরোটাই শর্করা (Carbohydrate)। ভাত বেশিক্ষণ রেখে দিলে তা পচে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভাতে পানি দিয়ে রাখলে বিভিন্ন গাজনকারি (Fermentation) ব্যাক্টেরিয়া (Bacteria) বা ইস্ট (Yeast) শর্করা ভেঙে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। গাজনকারি ব্যাক্টেরিয়া যে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে এর ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায়। তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।

বর্তমানে প্রায় সবার বাড়িতে সকালে গরম ভাত কিংবা নাস্তার প্রচলন। কিন্তু অতীতে সকাল বেলা মানে পান্তা ভাত, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারে। এ ভাতের সাথে একটু লবণ, শুকনা মরিচ পোড়া অথবা কাঁচা মরিচ এবং পিঁয়াজ। লেবু অথবা লেবু পাতার রস। থাকলে একটু আচার। এখনও গ্রামাঞ্চলে পান্তার প্রচলন রয়েছে। তবে শহরাঞ্চলে এই খাবারের প্রচলন নেই বললেই চলে। অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর এই পান্তা ভাত। চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনের যাবতীয় শক্তি নাকি পান্তায় রয়েছে। তাদের দাবি, শরীর চর্চা না করেও পান্তা ভাত খেয়ে বলিষ্ঠ শরীর আর উজ্জ্বল ত্বক, চুলের অধিকারী হতে পারেন যে কেউই।

সম্প্রতি ভারতের আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক পরীক্ষা করে দেখেছেন, ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন তৈরি হয়। সেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে আয়রন থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়া ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে পটাশিয়াম বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম। যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে ক্যালশিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম। সেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ ৪৭৫ মিলিগ্রাম।

এছাড়া পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন-১২ এর ভালো উৎস। এছাড়া দেহের বহু উপকারী ব্যকটেরিয়া পান্তা ভাতে তৈরি হয়।

উপকারিতা:
১. পেটের সমস্যার সমাধান।

২. কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয়।

৩. শরীর সতেজ থাকে।

৪. পাশাপাশি শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।

৫. রক্ত চাপ স্বাভাবিক থাকে।

৬. হার্ট সুস্থ থাকে।

Check Also

ওজন কমাতে চাইলে আজ থেকেই দারুচিনি

ওজন বাড়ছে? কোলেস্টেরল বাড়ছে? হার্টের রোগের দিকে এগোচ্ছেন? ঘরোয়া টোটকা দারুচিনি। ইনসুলিন, কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *