Friday , May 25 2018
Home / জীবনযাপন / সতীত্ব-নারীর সতীত্ব ও পুরুষের সতীত্ব সম্পর্কে আলোচনা

সতীত্ব-নারীর সতীত্ব ও পুরুষের সতীত্ব সম্পর্কে আলোচনা

যৌন-নিষ্ঠা অর্থাৎ বিবাহিত দম্পতি ব্যতীত অন্য কারোর মধ্যে রতি-ক্রিয়া না হওয়ার নামই সতীত্ব। ‘সতী’ বলতে যৌন-নিষ্ঠাবতী স্ত্রীলোক বুঝায়। যৌন-নিষ্ঠাবান পুরুষ বুঝাইবার মত কোনও শব্দ আমাদের অভিধানে নাই। ইংরেজী chastity শব্দ দ্বারাও নারীর যৌন-নিষ্ঠাই বুঝানো থাকে। কিন্তু ইংরেজী ভাষার যৌন-সাহিত্যে পুরুষের বেলাতেও অন্য শব্দের অভাবে chaste এবং  chastity কথা ব্যবহার করা হয়েছে। ভাব প্রকাশের সুবিধার জন্য আমিও এই পুস্তকে ‘সতী’ ও ‘সতীত্ব’ শব্দদ্বয় উভয় লিঙ্গের শব্দরূপে ব্যবহার করিব।

স্ত্রীর সতীত্ব

স্ত্রীলোকের যৌন-নিষ্ঠার জন্য ‘সতী’ ও ‘সতীত্ব’ এবং chaste এবং chastity শব্দ আছে; কিন্তু পুরুষের সতীত্ব প্রকাশের জন্য কোনও শব্দ ভাষায় না থাকার একমাত্র কারণ এই যে, সমস্ত সভ্যজাতির মধ্যেই নারী ও পুরুষের সতীত্বকে দুইটি ভিন্ন মাপ-কাঠি দিয়ে মাপা হয়েছে। পুরুষের সতীত্বের প্রয়োজনীয়তা  স্বীকৃত হলেও নারীর সতীত্বের ন্যায় উহাকে অত্যাবশ্যক বলে স্বীকার করা হয় নাই। সেজন্য নারীর অসতীত্বকে যেমন কঠোর হস্তে দণ্ডিত করা হয়েছে, পুরুষের অসতীত্বকে তেমনভাবে দণ্ডিত করা হয় নাই।

পুরুষের সতীত্ব

নারী-পুরুষের মধ্যে সতীত্বের এই পার্থক্যের যুক্তি-সঙ্গত কারণ ছিল। কারণ রতি-ক্রিয়ার ফলাফল নারী-পুরুষের মধ্যে স্বভাবতঃই পৃথক। পুরুষ রতি-ক্রিয়া করেই মুক্ত। কিন্তু রতি-ক্রিয়ায় নারীর দায়িত্ব আরম্ব হয় মাত্র। পুরুষ #ব্যভিচার করলে সে স্ত্রীর বিশ্বাস-ভঙ্গ করিল মাত্র। আর স্ত্রী ব্যভিচার করলে সে ত স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করিলই,  তদুপরি সে এমন একটা সন্তান পেটে ধারণ করিল যে সন্তান তাঁর বিবাহিত স্বামীর নয়। সুতরাং পিতৃত্ব নির্দ্বারণের সুবিধার দিক হতে প্রধানতঃ স্ত্রীলোকের সতীত্বের উপর অধিক জোর দেওয়া হয়েছে। ইহা স্বীকার্য্য যে পিতৃ-প্রধান পরিবার-প্রথাই এই মনোভাবের জন্য দায়ী। পিতৃ-প্রধানের স্থলে যদি মাতৃ-প্রধান পরিবার-প্রথা প্রচলিত থাকিত,  তবে নারী-সতীত্বের কোনও প্রয়োজন থাকিত না।

অবিবাহিতা নারীর সতীত্ব

অবিবাহিতা নারীর জন্য সতীত্ব বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রীয়-ব্যবস্থায় অত্যাবশ্যক। কারণ অবিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করে তাঁর সতীত্বকে যেমন গোপন রেখে ধার্মিক সেজে সমাজে চলা-ফেরা করতে পারে, অবিবাহিতা #নারী তা পারে না। কাজেই অবিবাহিতা নারী নিজের সতীত্ব রক্ষা করতে বাধ্য।

স্ত্রী-পুরুষের সতীত্বের পার্থক্য

কিন্তু যদি নারী-পুরুষের সতীত্বকে প্রয়োজনীয়তার মাপ-কাঠি দিয়েই মাপা হয়, তবে বর্তমান-যুগে পুরুষের অসতীত্ব অপেক্ষা নারীর অসতীত্বকে অধিক নিন্দা করা যায় না। যে সমস্ত লোক নারী ও পুরুষের সতীত্বের মধ্যে পার্থক্যের সীমা-রেখা টেনে এ-যাবৎ একই ধরণের অপরাধের জন্য পুরুষকে ক্ষমা ও নারীকে শাস্তি-দান করে এসেছে, তাঁরা শুধু এই যুক্তিতেই তা করেছে যে, নারী গর্ভ-ধারণ করে বলেই তাঁর সম্বন্ধে এত অধিক সাবধানতা অবলম্বন করা হয়েছে। অন্যথায় পুরুষের দিকে পক্ষপাতিত্ব করার ইচ্ছা তাঁদের আদৌ নাই। তাঁরা বলে থাকেন, “স্রষ্টা পুরুষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছেন, আমরা কি করবো?” এই যুক্তি ও মতবাদ যদি সত্য ও আন্তরিক হয়, তবে বর্তমান যুগে জন্ম-নিয়ন্ত্রণের উপকরণ প্রয়োগে নারী গর্ভ-ধারণ না করেও রতি-ক্রিয়া করতে পারে, তখন অসতীত্বের জন্য নারীকে পুরুষের চেয়ে এক তিল বেশী নিন্দা করা যেতে পারে না।

নারী-সতীত্বের দৈহিক প্রয়োজনীয়তা

কিন্তু আমার  মতে দৈহিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও সতীত্বের একটা নিজস্ব গুণ আছে। সতীত্ব স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের বিশ্বাস ও মমতা সৃষ্টির দ্বারা বিবাহ-বন্ধনে একটা পবিত্র মাধুর্য্য আনা ছাড়াও তা মানব-মনে যৌন-বোধ সম্বন্ধে একটা মহৎ মনোবৃত্তির সৃষ্টি করে থাকে। যৌন-বোধ দায়িত্ববোধের সংমিশ্রণে স্বতঃই মানব-মনে একটা উচ্চতা লাভ করে।

ইউরোপে প্রাগুদ্বাহ সতীত্ব

অধ্যাপক মিচেলস তদীয় ‘সেকশুয়েল এথিকস’ নামক গ্রন্থে বলেছেন  ইউরোপের অধিকাংশ তরুণী রতি-ক্রিয়ায় অনভিজ্ঞ সতী-পুরুষ অপেক্ষা রতি-ক্রিয়ায় অভিজ্ঞ-সতী পুরুষকেই বেশী পছন্দ করে।

ভারতে

কিন্তু আমাদের ভারতীয় তরুণীদের আমরা এই মনোবৃত্তি-সম্পন্ন বলে মনে করি না। ভারতীয় তরুণীরা নিজেরা যেমন সতী থাকিতে চায়, তেমনই সতী-যুবককেই তাঁহারা স্বামীরূপে যেন তাঁদের প্রথম মিলনের রাত্রে সত্যের মর্যাদা রক্ষা করে বলতে পারে, “এটি আমার প্রথম যৌন-মিলন।”

হ্যাভলক এলিস নারী-পুরুষের উভয়ের সতীত্বের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে যুক্তি-তর্ক দিতে গিয়ে বলেছেন  যে, যে রুশিয়ার সমাজ-তন্ত্রবাদীরা এ-যাবৎ সতীত্বকে বর্জনীয় কুসংস্কার বলে বিদ্রুপ করতো; তারাও ইদানীং সতীত্বের পক্ষপাতী হয়ে উঠেছে।

ধর্মে সতীত্ব

পৃথিবীর অধুনা-প্রচলিত সমস্ত ধর্মেই সতীত্বের উপর খুব জোর দিয়েছে এবং প্রাগুদ্বাহ যৌন-মিলনের শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। তাঁরা নারী ও পুরুষ উভয়ের সতীত্বের প্রশংসা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু নিষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘদিন সতীত্ব রক্ষা করা যে খুবই কঠিন কার্য্য, ঐ সমস্ত ধর্মের তাও স্বীকৃত হয়েছে। সেইজন্যই বোধ হয় #হিন্দু ধর্মে বাল্য-বিবাহের ব্যবস্থা প্রচলিত হয়েছিল। #ইসলাম ধর্ম যে নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও চার-বিবাহের অনুমতি দিয়েছে, তা বোধ হয়, এই যৌন-নিষ্ঠার দুরূহত বিচার করেই। মানুষের পক্ষে পরিণত বয়স পর্যন্ত যৌন-নিষ্ঠা রক্ষা করা দাম্পত্য-জীবনে যৌন-সুখের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় সন্দেহ নাই, কিন্তু তাঁর একটা সীমা আছে। যৌবন-প্রাপ্তির পর আর যুবকদেরকে জবরদস্তী করে যৌবন-উপভোগ হতে বিরত রাখা উচিত  নয়, সম্ভবও নয়। সেই জন্যই হিন্দুধর্মে সকাল-বিবাহ দেবার ব্যবস্থা হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীকালে মানুষ সেই সকাল-বিবাহ-প্রথাকে যে শৈশব-বিবাহে পরিণত করেছে, সে জন্য হিন্দুধর্মের দোষ দেওয়া চলে না।

Check Also

বাড়তি আয়ের জন্য যে কাজগুলো করতে পারেন

নির্ধারিত চাকরির পাশাপাশি অন্য কিছু করে বাড়তি আয়কেই পার্টটাইম জব বলে থাকে অনেকেই। এই ধরনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *